বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ন গাইড
মনে করুন যে আপনার কাছের বন্ধু বা আপনার কোন কাছের ভাই তার কোন গুদামঘর নেই, কোন
পণ্য নাই এমন কি বড় কোন মূলধন নেই তবুও সে অন্য বিক্রি করে আয় করছেন।
এটা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাকে বলা হয় ড্রপ শিপিং। চাইলে আপনিও কোন
পণ্য কেনা বা স্টক রাখার ঝামেলা ছাড়ায় বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করুন।
দ্বিতীয় ধাপে একজন বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার কে খুঁজুন। যেমন দারাজ সেলার প্যানেল বা স্থানীয় পাইকারি বাজার থেকে সাপ্লাইয়ের বাছাই করতে হবে আপনাকে।। সাপ্লাই এর রেটিং রিভিউ এবং ডেলিভারির সময় যাচাই করতে হবে আপনাকে।
তৃতীয় ধাপে সিলিং প্যানেল তৈরি করুন। ফেসবুক পেজ, মার্কেটপ্লেস বা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। শুরুতে ফেসবুকই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।
চতুর্থ ধাপে পেমেন্ট সিস্টেম সেটআপ করুন। বিকাশ নগদ এবং ব্যাংক ট্রান্সফার কাস্টমারদের জন্য পেমেন্টের পথ সহজ করুন। অ্যাডভান্স পেমেন্ট নেওয়ার অভ্যাস করুন
পঞ্চম ধাপে পণ্যের ছবি ও বিবরণ তৈরি করবেন। সাপ্লায়ার এর ছবি সরাসরি না ব্যবহার করে নিজে সম্ভব হলে স্যাম্পল দিয়ে ফটো তুলুন অথবা ছবি এডিট করে আকর্ষণীয় করুন
ষষ্ঠ ধাপে কুরিয়ার পার্টনার নির্বাচন করবেন। স্টেট ফাস্ট, পাঠাও কুরিয়ার অথবা রেড এক্স এর সাথে চুক্তি করবেন। ডেলিভারি চার্জ এবং কোড সুবিধা আগে থেকে জেনে নিবেন।
সপ্তম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করবেন। প্রথমে পাঁচ থেকে দশটি পণ্য দিয়ে কাজ শুরু করবেন। কাস্টমার ফিডব্যাক দেখিয়ে ধীরে ধীরে স্কেল করবেন।
সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ন গাইড
- ড্রপ শিপিং বলতে কি বোঝায়?
- বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কীভাবে কাজ কর ?
- ড্রপশিপিং শুরু করার ধাপ
- মহিলাদের ফ্যাশন ও পোশাক
- গৃহস্থালি ও কিচেন প্রোডাক্ট
- শিশু পণ্য ও খেলনা
- ইলেকট্রনিক্স অ্যাক্সেসরিজ
- Supplier কোথায় পাবেন
- 1688.com চীনের সবচেয়ে বড় পাইকারি platform
- Daraz Seller Panel
- স্থানীয় বাংলাদেশি Supplier
- ক্রেতার থেকে টাকা কিভাবে নেবেন?
- ড্রপ শিপিং বিজনেসের সুবিধা ও অসুবিধা
- শেষ কথা
ড্রপ শিপিং বলতে কি বুঝায়?
ড্রপ শিপিং মূলত খুচরা পরিপূরণ পদ্ধতি, যার অর্থ অন্য গুদামে সংরক্ষণ না করে
বিক্রি করা। এই পদ্ধতিতে খুচরা বিক্রেতা পণ্য সংরক্ষণ করেন না মানে তার কাছে
কোন পণ্য সামগ্রী রাখা লাগে না। যিনি এই পেশায় কাজ করছেন তিনি কৃতপক্ষে
সরবরাহি থেকে যখনি পণ্যগুলি ক্রয় করবেন যখন তিনি অর্ডার পান বা ক্রয় করা হয়।
পণ্যগুলি সরাসরি প্রেরণ করা হয়।
এই সিস্টেমে খুচরা বিক্রি থেকে কোন তারিখে পরিচালনা করতে হবে না। আর এই
ব্যবসায় খুচরা বিক্রি থাকে কোনভাবেই অন্য মজুদ বা অর্ডার পূরণ করতে হয় না বরং
সরোবর কারীরাই সবকিছুর দায়িত্ব নেই।
বাংলাদেশে ড্রপশিপিং কীভাবে কাজ করে ?
ড্রপশিপিং ব্যবসা প্রধানত দুই প্রকারের হয় :
- দোকানের মালিক এমন একজন সরবরাহকারী খুঁজে বের করেন যিনি পণ্য ড্রপশিপ করবেন। তারা সরবরাহকারীর সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং প্রয়োজন অনুসারে পণ্য অর্ডার করেন।
- দোকানের মালিক এমন একটি পণ্য খুঁজে পান যা তারা বিক্রি করতে চান এবং তারপর একজন সরবরাহকারী খুঁজে পান যিনি তাদের জন্য সেই পণ্যটি ড্রপশিপ করবেন।
- দোকানের মালিক তাদের সাইটে একটি পণ্য তালিকাভুক্ত করেন।
- গ্রাহক দোকান মালিকের সাইট থেকে পণ্যটি অর্ডার করেন।
- দোকানের মালিক সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তারপর পণ্যটি সরাসরি গ্রাহকের কাছে পাঠান।
ড্রপশিপিং শুরু করার ধাপ
প্রথমে পণ্য ক্যাটাগরি নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমেই আপনি সিদ্ধান্ত নিন আপনি কোন ধরনের পণ্য বিক্রি করবেন। একসাথে সব কিছু বিক্রি করার চেষ্টা করতে যাবেন না। একটি নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে মনোযোগ দিন যেমন মেয়েদের পোশাক, শিশুমণ্য বা গৃহস্তী সামগ্রী সমূহ।দ্বিতীয় ধাপে একজন বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার কে খুঁজুন। যেমন দারাজ সেলার প্যানেল বা স্থানীয় পাইকারি বাজার থেকে সাপ্লাইয়ের বাছাই করতে হবে আপনাকে।। সাপ্লাই এর রেটিং রিভিউ এবং ডেলিভারির সময় যাচাই করতে হবে আপনাকে।
তৃতীয় ধাপে সিলিং প্যানেল তৈরি করুন। ফেসবুক পেজ, মার্কেটপ্লেস বা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। শুরুতে ফেসবুকই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।
চতুর্থ ধাপে পেমেন্ট সিস্টেম সেটআপ করুন। বিকাশ নগদ এবং ব্যাংক ট্রান্সফার কাস্টমারদের জন্য পেমেন্টের পথ সহজ করুন। অ্যাডভান্স পেমেন্ট নেওয়ার অভ্যাস করুন
পঞ্চম ধাপে পণ্যের ছবি ও বিবরণ তৈরি করবেন। সাপ্লায়ার এর ছবি সরাসরি না ব্যবহার করে নিজে সম্ভব হলে স্যাম্পল দিয়ে ফটো তুলুন অথবা ছবি এডিট করে আকর্ষণীয় করুন
ষষ্ঠ ধাপে কুরিয়ার পার্টনার নির্বাচন করবেন। স্টেট ফাস্ট, পাঠাও কুরিয়ার অথবা রেড এক্স এর সাথে চুক্তি করবেন। ডেলিভারি চার্জ এবং কোড সুবিধা আগে থেকে জেনে নিবেন।
সপ্তম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করবেন। প্রথমে পাঁচ থেকে দশটি পণ্য দিয়ে কাজ শুরু করবেন। কাস্টমার ফিডব্যাক দেখিয়ে ধীরে ধীরে স্কেল করবেন।
ক্রেতার থেকে টাকা কিভাবে নেবেন?
বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য পেমেন্ট বা টাকা লেনদেন বিষয়টি
অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে
পূর্ণ হাতে পেয়ে টাকা দেওয়া বা ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি পছন্দ
করে। এই সুবিধা দেওয়ার জন্য আপনাকে দেশের যে কোন একটি ভাল কুরিয়ার সার্ভিসের
একটি মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে হবে।
এরপর কুরিয়ার প্রতিনিধিরাই তার ঠিকানা পৌঁছে দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ
করবে। কুরিয়ার কোম্পানি কেটার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তাদের সার্ভিস চার্জ এটি
বাকি টাকা সরাসরি আপনার বিকাশ নগদ বা ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দিবে।
আরো পড়ুন: ড্রপশিপিং ব্যবসা কি বাংলাদেশে বৈধ?
ড্রপ শিপিং বিজনেসের সুবিধা ও অসুবিধা
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| মিনিমাম ইনভেস্টমেন্ট: ড্রপশপিং বিজনেসে প্রারম্ভিক নির্মাণশীলতা সর্বনিম্ন থাকে, যার ফলে আপনি প্রয়োজনে কম পুঁজি নিয়ে আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। | কাস্টমার সার্ভিস মেশিন্যারি: আপনার নিজস্ব পণ্য নেই, তাই কাস্টমারদের প্রশ্নগুলির জন্য আপনাকে সরাসরি উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, যা কিছুটা সময় নিতে পারে। |
| ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট: আপনার নিজস্ব স্টক স্থানকে প্রয়োজন নেই, এটি আপনার সময় এবং অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে সাহায্য করে এবং ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সহজ করে। | মার্জিন কন্ট্রোল: আপনি আপনার পণ্য মূল্য নিবন্ধিত করতে পারেন না, যা মার্জিন নিয়ন্ত্রণ করতে কঠিন করতে পারে। |
| লো রিস্ক: আপনি কেবল পণ্য বিক্রি করার জন্য অর্ডার প্রদান করেন, সুতরাং প্রসেসিং, প্যাকেজিং এবং শিপিং সম্পর্কিত জন্য কোনও জিম্মাদারি নেই। | প্রসারণশীলতা: আপনি আপনার সরবরাহকারীদের নির্ভর করতে হবে, যার কারণে আপনি প্রসারণশীলতা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। |
শেষ কথা
ব্যবসায় সফল হতে হলে সঠিক পরিকল্পনা, কড়া আর্থিক শৃঙ্খলা এবং গ্রাহকান্দির মানসিকতা বজায় রাখার সবচেয়ে বেশি জরুরি। খুব দ্রুত এবং সব সময় মিষ্টি ভাষায় এবং হাসিমুখে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর যদি কোন বোনের ত্রুটি থাকে তবে সেটি সহজে ফেরত নেওয়া বা পরিবর্তন দেওয়ার একটি সহজ ব্যবস্থাপনা রাখুন।
কাস্টমার আপনার উপরে সন্তুষ্ট থাকবে এবং অন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে
না। এতে করে পরবর্তীতে আপনার আরও নতুন কাস্টমার এতে সাহায্য হবে। পরিশেষে বলা
যায় যে বর্তমান যুগে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ড্রপ শিপিং বিজনেস অনেক ভালো
অপশন। সাধারণ শুরু করতে হলে অনেক বড় অংকের টাকা প্রয়োজন এবং অনেক সমস্যা দেখা
দিতে পারে।
সেখানে দাঁড়িয়ে ড্রপ শিপিং ব্যবসা আপনাকে একদম স্বাধীনভাবে একটি নিজস্ব
কোম্পানি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। যেমন অল্প টাকাতে শুরু করা যায় তেমনি সঠিক
নিয়ম জানলে এখান থেকে প্রতি মাসে লাভজনক আয় করা সম্ভব। তবে একটা জিনিস আপনাকে
খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলো ধৈর্য এবং সততা আর সঠিক মার্কেটিং কৌশল।
তিনটি মিলিয়ে কাজ করলে আপনি ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে এটিকে দীর্ঘমেয়াদী পেশা
হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে ড্রপ শিপিং
বিজনেস আপনার জীবনের নতুন মুখ বা নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে।


জীবন হাব ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url